মাসে ১০ পাউন্ড ওজন কমাতে রোজ খান এই খাবারটি!

মাসে ১০ পাউন্ড ওজন কমাতে রোজ খান এই খাবারটি!

হ্যাঁ, ঠিক শুনেছেন। মাসে ১০ কেজি পাউন্ড কমানোর কথাই বলছি, তাও আবার পেট পুরে ভালো খাবার খেয়ে। কী করবেন? কিছুই না। বিনা ব্যায়ামে মাসে ১০ পাউন্ড কিংবা এর বেশী ওজন কমাতে চাইলে কেবল দিনে দুই বেলা খেতে হবে এই খাবারটি। এটি খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনই এতে যোগ করতে পারবেন হরেক স্বাদের বাহার। শুধু তাই নয়, একে “রান্না” করার কোন প্রয়োজনই নেই। কয়েকটি উপাদান মেশাবেন আর তৈরি হয়ে যাবে আপনার ওজন কমানোর সিক্রেট ফর্মুলা। চলুন, জেনে নিই বিস্তারিত।

কী করবেন?

তেমন কিছুই নয়, কেবল দিনে দুই বেলা আপনার সাধারণ আহার বাদ দিয়ে খাবেন এই খাবারটি। যেটুকু পরিমাণে দেয়া হবে, ঠিক সেটুকুই। ডিনারে অবশ্যই খাবেন এটি, সাথে ব্রেকফাস্ট বা লাঞ্চ যে কোন একবেলায় খাবেন যখন আপনার সুবিধা হয়। এবং অন্য যে বেলায় সাধারণ খাবার খাবেন, তখন কোন কার্বোহাইড্রেট, মিষ্টি বা ভাজা খাবার খাবেন না। গ্রিল করে চিকেন বা মাছ, সাথে কাঁচা বা অল্প তেলের সবজি, ডাল ইত্যাদি রাখবেন খাবারের তালিকায়। খুব বেশী হলে একটি রুটি চলতে পারে। আর কাঁচা ফলমূল ও সালাদ খেতে পারেন ইচ্ছা মত। যে কদিন ডায়েট করবেন, কোন রকম কোমল পানীয় পান করবেন না এবং চিনির বদলে ডায়াবেটিক সুগার ব্যবহার করবেন।

কীভাবে কমাবে ওজন?

এই খাবারটি ওটস, টক দই এবং দুধের তৈরি একটি সুস্বাদু খাবার যার এক বাটিতে আছে মাত্র ৬০০ ক্যালোরি। কিন্তু খাবারটি দীর্ঘ সময় আপনার পেট ভরা রাখে, উচ্চ মাত্রার ফাইবার থাকে বিধায় শরীরের মেটাবোলিজম উন্নত করে ও ওজন কমাতে সহায়তা করে। ১ পাউন্ড কমানোর জন্য মোটামুটি ৩৫০০ ক্যালোরি ঝরাতে হয়। আপনি যদি দিনে দুইবেলা এই খাবারটি খান, তাহলে আপনি দুই বেলায় মোট গ্রহণ পড়বে মাত্র ৬০০ ক্যালোরি। আর অন্য বেলায় যদি কার্বোহাইড্রেট, মিষ্টি ও ভাজা খাবার বাদ দিয়ে আহার করেন, তবে পেট পুরে খেলেও ৪০০/৫০০ ক্যালোরির বেশী গ্রহণ করা হবে না। সব মিলিয়ে আপনার পেট ভরা রেখেও দৈনিক ক্যালোরি গ্রহনের পরিমাণ কমে আসবে মোট ১০০০ ক্যালোরিতে। একজন মানুষের দৈহিক ক্যালোরির চাহিদা তার ওজন ও কাজের ভিত্তিতে মোটামুটি ১৫০০ থেকে ২৫০০ ক্যালোরি। দিনে ১০০০ ক্যালোরির মাঝে খাওয়া দাওয়ার পর্ব সারতে পারলে ব্যায়াম করা ছাড়াই মোটামুটি ৩ দিনে ৩৫০০ ক্যালোরি বাড়তি খরচ হবে, অর্থাৎ ১ পাউন্ড করে ঝরবে আপনার ওজন। এভাবে মাসে কমপক্ষে ১০ পাউন্ড এবং এর বেশিও ওজন কম করতে পারবেন। ভালো ফল পেতে দৈনিক ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ব্যায়ামের অভ্যাসও করতে পারেন। এতে ওজন কমবে দ্রুত।

জেনে নিন সেই দারুণ রেসিপিটি!

উপকরণ- রোলড ওটস ১/২ কাপ, ১/৩ কাপ স্কিম মিল্ক বা নন ফ্যাট দুধ, ১/৩ কাপ লো ফ্যাট টক দই, ডায়াবেটিক চিনি স্বাদ অনুযায়ী, আপনার পছন্দের যে কোন একটি বা দুটি ফল ১/২ কাপ (আপনি চাইলে মিষ্টি বাদ দিয়ে ঝাল-মশলা যোগ করে খেতে পারেন। সাথে দিতে পারেন কোন সবজি। তবে অবশ্যই কোন তেল বা সস যোগ করবেন না)

প্রণালি- ফল বাদে সমস্ত উপকরণ একত্রে মিশিয়ে রাখুন রাতের বেলাতেই। ঢাকনা দিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। সকাল বেলায় উঠে দেখবেন তৈরি হয়ে গিয়েছে দারুণ সুস্বাদু খাবার। এটাকেই সারাদিন খেতে পারবেন আপনি। খেতে পারেন ঠাণ্ডা, চাইলে গরমও করে নিতে পারেন। পাতলা খেতে চাইলে পানি যোগ করবেন। তবে যেটুকু পরিমাণ দেয়া হয়েছে এর বেশী কিছু যোগ করবেন না।

ব্রণ ও ব্ল্যাকহেডস দূর করতে অ্যাসপিরিন মাস্ক

আমাদের মধ্যে এমন কাউকেই হয়ত খুঁজে পাওয়া যাবে না যারা ব্রণ বা ব্ল্যাকহেডস সমস্যাতে ভোগেন না।একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন ব্ল্যাকহেডস বা ব্লেমিস দূর করার জন্য ব্যবহৃত স্ক্রাবের প্রধান উপকরণ হচ্ছে স্যালিসাইলিক এসিড। স্যালিসাইলিক এসিড ব্রণের আকার ছোট করে, ব্রণের দাগ দূর করে এবং ব্ল্যাকহেডস দূর করে। এই স্যালিসাইলিক এসিড আবার জনপ্রিয় ব্যথা নিরোধক অ্যাস্পিরিনের(বাজারে ডিস্প্রিন নামে পাওয়া যায়) প্রধান উপকরণ। সেই অ্যাসপিরিন দিয়েই তৈরি অ্যাসপিরিন মাস্ক, যা পুরো পৃথিবীতে বেশ জনপ্রিয়। আসুন জেনে নেই কীভাবে তৈরি করবেন অ্যাসপিরিন মাস্ক। অ্যাসপিরিন মাস্ক তৈরির রেসিপি ত্বক ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। মাস্কটি ত্বক কে বেশ শুষ্ক করে দেয় তাই শুষ্ক ত্বকের জন্য নিতে হবে বাড়তি যত্ন।
10557210_1462322284025210_4641742580881420130_n
যা প্রয়োজনঃ

মাস্কটি তৈরি করতে আপনার প্রয়োজন অ্যাস্পিরিন ট্যাবলেট। বাজারে বিভিন্ন নামে অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট পাওয়া যায়। তবে এর মধ্যে কিছু ট্যাবলেট কোটেড আর কিছু আনকোটেড। আনকোটেড ট্যাবলেট মাস্কটি তৈরিতে বেশি সুবিধাজনক(সহজে গলে)। আনকোটেড ট্যাবলেটের মধ্যে ডিসপ্রিন অন্যতম। এটি বেশ সহজলভ্য ও দামে সস্তা।

শুষ্ক ত্বকের জন্যঃ

উপকরণঃ

• অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট – ৩-৪ টি।

• মধু – ১ চা চামচ।

• আমন্ড অয়েল – কয়েক ফোঁটা

আধা চা চামচ পানিতে ট্যাবলেট গুলো ভিজিয়ে রাখুন। ট্যাবলেট গলে গেলে মধু ও আমন্ড অয়েল মেশান। মুখে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রাখুন। পরিষ্কার পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ধোয়ার সময় আলতো ভাবে ম্যাসেজ করুন। মুখ মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।

তৈলাক্ত/কম্বিনেশন ত্বকের জন্যঃ

উপকরণঃ

• অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট- ৩-৪ টি।

• লেবুর রস-১ চা চামচ।

পূর্বের নিয়মে অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট গলিয়ে তাতে লেবুর রস দিয়ে ভালো ভাবে মেশান। মুখে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

অ্যাসপিরিন মাস্কের উপকারিতাঃ

• ব্রণের পরিমাণ কমায়।

• ত্বক নরম ও কোমল করে।

• নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণের প্রকোপ কমায়।

• ব্ল্যাকহেডস /হোয়াইটহেডস দূর করে।

• অ্যাসপিরিনের অ্যান্টিইফ্লামেটরি গুন রয়েছে, যা মুখের ফোলা ভাব কমায়, জীবানুযুক্ত ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে।

সতর্কতাঃ

• সপ্তাহে ১ দিনের বেশি মাস্কটি ব্যবহার না করাই ভালো। তা না হলে ত্বক শুষ্ক ও খড়খড়ে হয়ে যেতে পারে।

• মাস্কটি তোলার সময় ভেজা কাপড় ব্যবহার করুন। পানির ঝাপটা দিয়ে নয়। মাস্ক চোখে বা নাকে গেলে জ্বালাপোড়া হতে পারে।

• অ্যাস্পিরিন মাস্ক ত্বক কে স্পর্শকাতর করে তোলে। তাই মাস্ক ব্যবহারের পর রোদে গেলে অবশ্যই সানস্ক্রিন লাগাতে হবে।

• অ্যাসপিরিনে অ্যালার্জী থাকলে বা আপনার ত্বক স্পর্শকাতর হলে মাস্কটি ব্যবহার করবেন না।

• ১৮ বছরের নীচে এই মাস্ক ব্যবহার না করাই ভালো।